728X90

0

0

0

0

0

0

0

0

0

এই অনুচ্ছেদে

কেবল এই দুই মাসেই হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা কেন বেশি?
73

কেবল এই দুই মাসেই হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা কেন বেশি?

হার্ট অ্যাটাকের কি কোনও নির্দিষ্ট সময় আছে? বিশেষ বা কোনও মাস বা ঋতুতে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বেশি হয়ে যায়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

In cardiophobia, despite no reasonable and proven heart condition, one still experiences symptoms similar to a major heart disease.

হৃদরোগ বড়ই ভয়ের। কখন যে আপনার জীবনে একটা অন্ধকার মুহূর্ত ডেকে আনতে পারে, তার আন্দাজ করাটা বস্তুত কঠিন। কিন্তু হার্ট অ্যাটাকের কি কোনও নির্দিষ্ট সময় আছে? বিশেষ বা কোনও মাস বা ঋতুতে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বেশি হয়ে যায়? বিশেষজ্ঞদের মতে, সারা বছরের তুলনায় শীতকালে এর ঝুঁকি অনেকখানি বেশি।

কলকাতার বি.পি. পোদ্দার হসপিটালের কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ দেবোপম গোস্বামী বলছেন, “আমাদের দেশে হার্টের সমস্যা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। এমনকি, ইদানিং তরুণ ও যুবকরাও কার্ডিয়াক সমস্যা নিয়ে প্রায়শই আমাদের কাছে আসছে, যাদের বয়স মাত্র 20 বা 30। তবে, সারা বছরের তুলনায় ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে সবচেয়ে বেশি হার্ট অ্যাটাকের কেস আসে হসপিটালগুলোতে।”

বছরের এত সময় থাকতে কেবলই জানুয়ারি ও ডিসেম্বর কেন? তাহলে কি ঠান্ডা আবহাওয়া এবং হার্ট অ্যাটাকের মধ্যে সত্যিই কোনও সম্পর্ক আছে? হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা কি ঋতুভেদে বাড়ে বা কমে? এ বিষয়ে ডাঃ গোস্বামী বলেন, “হৃৎপিণ্ড হল মানবদেহের অন্যতম প্রধান অঙ্গ। কিন্তু শীতকালে এই অঙ্গের উপরে বেশি চাপ পড়ে। তার ফলে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে।”

একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, তাপমাত্রার পারদ নামতে থাকার সঙ্গে সঙ্গেই বাড়তে থাকে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি। তাপমাত্রা, হাওয়ার গতিবেগ, আপেক্ষিক আর্দ্রতা বাড়তে থাকলেও হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বাড়তে থাকে। পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় প্রতিটা মরসুমেই হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা কম-বেশি, বাড়তে বা কমতে থাকে। যেমন, গরম কালের তুলনায় বর্ষাকালে হৃদরোগের আশঙ্কা বেশি থাকে। তবে এই ঝুঁকি সবথেকে বেশি হয়ে যায় শীতকালে।

ঠিক কী কারণে শীতকালে হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়ে?

আসলে, শীতকালে শরীরের ভিতরের ও বাইরের তাপমাত্রার যথেষ্ট তারতম্য ঘটে। ফলে, দেহের আভ্যন্তরীণ উষ্ণতা বজায় রাখার জন্য হৃৎপিণ্ডকে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়। কলকাতার শ্রী অরবিন্দ সেবাকেন্দ্র নার্সিং হোমের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ গৌতম দত্তের কথায়, “প্রচণ্ড ঠান্ডায় পারিপার্শ্বিক তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় দেহের তাপ সংরক্ষণের জন্য রক্তবাহীনালীগুলির সংকোচন ঘটে। ডাক্তারি পরিভাষায় যাকে বলে ভাসোকন্সট্রিকসান। একদিকে যেমন এই কারণে দেহের তাপ সংরক্ষিত হওয়ায় সুবিধা হয়, অন্যদিকে আবার এই একই কারণে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। তাই যাঁদের বুকে ব্যথা বা অ্যাঞ্জিনা আছে, অর্থাৎ যাঁদের হৃদযন্ত্র এমনিতেই দুর্বল, তাঁদের ক্ষেত্রে শীতকালে হার্টের সমস্যাগুলি আরও বেড়ে যায়। অনেকক্ষেত্রে সারা শরীর ঠান্ডা হয়ে গিয়ে হাইপোথার্মিয়া দেখা দিতে পারে, যার ফলে হৃদপেশির ক্ষতি হয়।”

কম জল খাওয়া

ডাঃ দত্ত আরও বলছেন, “শীতকালে জলও তুলনামূলক ভাবে কম পান করা হয়। ফলে, রক্ত ঘন হতে থাকে। এমনকি, রক্ত জমাট বেঁধে ধমনিতে ক্লটও তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যাঁদের রক্তনালীর প্রাচীরে মেদ ও কোলেস্টেরল জাতীয় পদার্থের অধঃক্ষেপ (প্লাক) থাকে, তাঁদের আর্টারির এক বা একাধিক জায়গা ব্লক হয়ে যায়। ফলে, রক্ত চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং হৃদপেশিতে অক্সিজেন সরবরাহও কম হয়ে যায়।”
শীতকালে ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণকেও হৃদরোগের আর একটি অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে শীতের ভোরবেলায় কুয়াশা এবং ধোঁয়াশা গাঢ় হতে থাকে মূলত শহরাঞ্চলে। তাই, এই সময় সকালে হাঁটতে বেরোলেও হার্ট ও ফুসফুসের নানা অসুখ দেখা দিতে পারে।

শীতকালীন অনুষ্ঠান

গোটা শীতকাল জুড়েই বাঙালিদের নানা উৎসব, অনুষ্ঠান, বিয়েবাড়ি, পিকনিক ইত্যাদি লেগেই থাকে। তাই, অনিয়মিত ও অসংযত খাওয়া-দাওয়াও চলতে থাকে। হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম কারণ সম্পর্কে কলকাতার উডল্যান্ডস হসপিটালের কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ এ.কে. বর্ধন বলেন, “শীতকালে মানুষের জীবনশৈলীও পরিবর্তিত হয়। এসময় অনেকেই তুলনায় বেশি ধূমপান করেন। এছাড়া শীতে মানুষের শারীরিক কার্যকলাপও হ্রাস পায়। জবুথবু হয়ে থাকা, হাঁটাচলা কম করা, ইত্যাদি বাজে অভ্যাসের পাশাপাশি চলতে থাকে অতিরিক্ত ভাজাভুজি বা অত্যাধিক মিষ্টি খাওয়া, বারবার চা বা কফি খাওয়া। শুধু তাই নয়। ঠান্ডায় অতিরিক্ত মদ্যপান করার প্রবণতাও বৃদ্ধি পায়। এই সবকটি কারণেই হার্টের সমস্যা হতে পারে।”

তাছাড়াও ডাঃ বর্ধনের মতে, “ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে নানারকম ভাইরাল ইনফেকশন ও ইনফ্লামেশন বা প্রদাহ শুরু হয় মানবদেহে। যেমন ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া, গলা ব্যথা, হাঁপানির মত সমস্যাগুলো এই সময় বাড়তে থাকে। সেই সঙ্গেই আবার পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে হৃদরোগের মতো জটিল সমস্যাও।”

ভিটামিন ডি-এর অভাব

নর্থ আমেরিকান জার্নাল অফ মেডিক্যাল সায়েন্সে ডক্টর অডা ফেয়ারের সাম্প্রতিকতম সমীক্ষায় উঠে এসেছে শীতকালে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। আর তা হল ভিটামিন-ডি এর অভাব। শীতকালে বেশিরভাগ মানুষই ঘরের ভিতরে জড়োসড়ো হয়ে থাকেন। অনেক সময় তাঁদের সেভাবে সূর্যালোকের সংস্পর্শেই আসা হয়না। ফলে, শীতকালে শরীরে অত্যন্ত কম পরিমাণে ভিটামিন ডি সংশ্লেষিত হয়। অথচ, গবেষণায় দেখা গিয়েছে, হার্টের স্বাভাবিক সক্রিয়তা বজায় রাখার জন্য এবং কার্ডিয়াক পেশি সংগঠনে ভিটামিন ডি-এর অনেকটাই ভূমিকা আছে।

আসলে আমাদের শরীরের অন্যান্য অংশের মতোই হৃদপেশিকেও সচল রাখার জন্য পুষ্টি ও অক্সিজেন সরবরাহের দরকার হয়। হৃৎপিণ্ডকে এই পুষ্টি যোগায় করোনারি আর্টারির নেটওয়ার্ক। কোনও কারণে পুষ্টির অভাব হলে হৃদপেশি ঠিকমতো কাজ করতে পারে না, তার ফলে হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হতে পারে, এমনকি থেমেও যেতে পারে। আর এই সমস্যাগুলি শীতকালেই সবথেকে বেশি দেখা যায়। তাই, দ্রুত সব ব্লক সরিয়ে হৃৎপিণ্ডে রক্তপ্রবাহ ঠিক করা অত্যন্ত জরুরি। যথাযথ শীতবস্ত্র ব্যবহার করে শরীরকে বাইরের তাপমাত্রা থেকে রক্ষা করাটাও জরুরি। যাঁদের আগে থেকেই হার্টের সমস্যা আছে, তাঁদের শীতের মরসুমে বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন। সেইসঙ্গে হৃদরোগ এড়াতে প্রয়োজন নিয়মিত শরীরচর্চা, ঠিকঠাক খাদ্যাভ্যাস ও সুস্থ জীবনযাপন।

আপনার অভিজ্ঞতা বা মন্তব্য শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এখন খবরে

প্রবন্ধ

প্রবন্ধ
দাঁত এবং মাড়ির স্বাস্থ্য খারাপ হলে সংক্রামক এন্ডোকার্ডাইটিস হতে পারে অর্থাৎ হার্ট ভালভের আস্তরণের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ। 
প্রবন্ধ
ছেলের বয়স 20 ছোঁয়নি, কিন্তু মাথায় একগাদা পাকা চুল। কেন হয় এমনটা, চুল পাকার স্বাভাবিক বয়সই বা কত, এই সব প্রশ্নের উত্তরই জেনে নেওয়া যাক।
প্রবন্ধ
ব্যায়াম নারীদের হাড় মজবুত রাখতে এবং হরমোনের ওঠানামা প্রতিরোধে সাহায্য করে। বাড়িতে 40 মিনিটের ব্যায়াম মহিলাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে উন্নত করে।
প্রবন্ধ
যোগায় হস্তমুদ্রা শুধুমাত্র ভঙ্গিমা নয়, প্রতিটি মুদ্রার নিজস্ব স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে।
প্রবন্ধ
ছয় বছরের মধ্যে দুবার কিডনি প্রতিস্থাপন করেছেন। অ্যাডভেঞ্চার প্রেমী কলকাতার সেই ব্যবসায়ী এর মধ্যেই রোমাঞ্চের স্বাদও নিতে বেরিয়ে পড়েছেন।
প্রবন্ধ
ডার্মাটোমায়োসাইটিসের প্রাথমিক লক্ষণ, ত্বকের ফুসকুড়ি, পেশির দুর্বলতার মতো বেশ কিছু বিষয়। কিন্তু কখনও তা রক্ত সঞ্চালন প্রভাবিত করে, আবারও কোলন ক্যান্সারও ডেকে আনতে পারে।

0

0

0

0

0

0

0

0

0

Opt-in To Our Daily Healthzine

A potion of health & wellness delivered daily to your inbox

Personal stories and insights from doctors, plus practical tips on improving your happiness quotient

Opt-in To Our Daily Healthzine

A potion of health & wellness delivered daily to your inbox

Personal stories and insights from doctors, plus practical tips on improving your happiness quotient
We use cookies to customize your user experience, view our policy here

আপনার প্রতিক্রিয়া সফলভাবে জমা দেওয়া হয়েছে.

হ্যাপিস্ট হেলথ টিম যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনার কাছে পৌঁছাবে।