728X90

0

0

0

এই অনুচ্ছেদে

তাড়াহুড়োয় বিপদ! ওজন কমাতে ‘ধীরে চলো’ নীতিই বেশি কার্যকর, কেন?
8

তাড়াহুড়োয় বিপদ! ওজন কমাতে ‘ধীরে চলো’ নীতিই বেশি কার্যকর, কেন?

দ্রুত ওজন কমানোর পরিকল্পনা ফলাফল দেয় ঠিকই। অনেকে সেগুলি মেনেও চলেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাতে শরীর এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

Why should you opt for gradual weight loss?

মোটা হতে বেশি সময় লাগে না। কিন্তু সেই বাড়তি ওজন কমাতে মাথার ঘাম পায়ে ছোটে! কেউ সময় নিয়ে ওজন হ্রাসে বিশ্বাসী। কেউ আবার রাতারাতি রোগা হওয়ার দিবাস্বপ্ন দেখেন। বিশ্বে প্রায় একশো কোটিরও বেশি মানুষ স্থূলতার শিকার। ফলে, ওজন হ্রাস যেমন জরুরি, তেমনই জরুরি তার সঠিক দিকনির্দেশেরও। তবে তার জন্য তাড়াহুড়ো করলে চলবে না। তাতে হিতের বিপরীত হতে পারে। শর্টকাট, দ্রুত ফলাফল জীবনের সবক্ষেত্রেই বিপদ ডেকে আনতে পারে। মেদ ঝরানোর ব্যাপারটাও তার অন্যথা নয়। ওজন কমাতে অনেকেই একটা নির্দিষ্ট ইভেন্টের লক্ষ্যমাত্রা রাখেন। হতে পারে তা কারও বিয়ে, আবার একটা কর্পোরেট ইভেন্টও হতে পারে। সে যাই হোক না কেন। ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ‘ধীরে ধীরে বেয়ে যাও তরী’র নীতি নিয়েই এগিয়ে যাওয়া ভাল বলে দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা। কেন?

আজকের ফিটনেস ইন্ডাস্ট্রি নানাবিধ ব্যায়াম, খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনধারার পরিবর্তনের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ফলাফলের সন্ধানকারীদের মুখে হাসি ফোটায়। তার ফলে একটু সময় নিয়ে ধীরে ধীরে ওজন কমানোর জার্নি থেকে ফোকাস অনেকটাই সরে গিয়েছে। যদিও বিশেষজ্ঞমহলের দাবি, এভাবে তড়িঘড়ি ওজন কমানো দীর্ঘমেয়াদে টেকসই না-ও হতে পারে। তাঁরা বলছেন, এই পদ্ধতিগুলি অস্বাস্থ্যকর। কারণ, এভাবে দ্রুততার সঙ্গে ওজন কমালে মেদ ঝরার পাশাপাশিই মানুষের স্বাস্থ্যের সামগ্রিক পতন হতে পারে।

ওজন হ্রাস কখনও লিনিয়ার হবে না

মানব গতিবিদ্যা এবং ফিজ়িওলজি বেশ জটিল। এটি মানুষের মধ্যে একটি অভিন্ন ওজন হ্রাসের প্যাটার্ন পর্যবেক্ষণ করার কাজটা অসম্ভব করে তোলে। বরং, একেক সময়ে একেকজন একেক রকম ফলাফল দেখতে পায়। ব্যাঙ্গালোরের প্রোটন ফিটনেস অ্যাকাডেমির ডিরেক্টর গৌতম সাঙ্গাপ্পা বলেছেন, “ওজন হ্রাস কখনও লিনিয়ার বা রৈখিক হবে না।” তাঁর বক্তব্য, “সত্যি কথা বলতে গেলে কী, বিভিন্ন মানুষের ক্ষেত্রে ওজন কমানোর প্রচেষ্টা এক মাস থেকে অন্য মাসে বাড়ার পরিবর্তে কমতে পর্যন্ত পারে।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, প্রয়োজনীয় ওজন কমানোর জন্য মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাসও স্বাস্থ্যকর হওয়া অপরিহার্য। কিন্তু কীভাবে তা সম্ভব, তার ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বেঙ্গালুরুর মনিপাল হসপিটালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট অ্যান্ড ব্যারিয়াট্রিক সার্জারি, ডাঃ সতীশ এন বলছেন, “আপনার খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক কার্যকলাপে সাধারণ পরিবর্তন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

দ্রুত ওজন কমানোর স্বাস্থ্যগত প্রভাব

ডাক্তাররা সবসময় ধীরে ধীরে ওজন কমানোর পরামর্শ দেন। দ্রুত ফলাফল পেতে গিয়ে কঠিন ডায়েটিং এবং কঠোর ব্যায়াম করতে গিয়ে অনেকেই বিপদে পড়েন। ফলে, তাঁদের শরীরে একটা খতরনাক প্রভাব পড়ে। সাঙ্গাপ্পা বলছেন, “প্রতিদিন মাত্র 200 থেকে 300 ক্যালোরির ঘাটতি নিয়ে ধীরে ধীরে ওজন কমানোর পরিকল্পনা করা উচিত। কঠোর পরিবর্তন এবং অনেক বেশি ক্যালোরি কমানোর ফলে ওজন হ্রাস পায় ঠিকই, তবে তা পেশির ভর, চর্বি, গ্লাইকোজেন এবং জলকে ব্যাপক ভাবে ক্ষতির দিকে পরিচালিত করে।”

তাই, কেউ চাইলে দ্রুত ওজন কমাতে পারেন ঠিকই। কিন্তু, অল্প সময়ের মধ্যে আবারও সেই আগের ওজনই ফিরে পেতে পারেন। কেন এমনটা হয়? সাঙ্গাপ্পা এর কারণ ব্যাখ্যা করে বলছেন, “দ্রুত ওজন কমানোর সাথে-সাথে উল্লেখযোগ্য পেশির ভর হ্রাস পায় এবং তা বিপাকের প্রক্রিয়াকে মন্থর করে দেয়। পরে আপনি যখন ফের স্বাভাবিক ভাবে খাবার-দাবার খেতে শুরু করছেন, তখন আপনার সেই হারানো ওজন আবারও ফিরে পেতে পারেন। তাই, সবসময় একই হারে এবং গতিতে ক্যালোরি বার্ন করা ঠিক নয়।”

কোনও রকমের নজরদারি ছাড়াই যখন কেউ ডায়েট রুটিনগুলি অক্ষরে-অক্ষরে মেনে দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা করেন, তখন পুষ্টির অপ্রতুলতা হতে পারে। এখন পুষ্টির অপ্রতুলতা মানে বুঝতেই পারছেন, কী ভয়ানক ক্ষতি হতে পারে! ডাঃ সতীশ যোগ করে বলছেন, “বিপাকের এই পরিবর্তন চুল পড়া, দ্রুত পেশি ক্ষয়, কোষ্ঠকাঠিন্য, ক্লান্তি, হাড়ের খনিজকরণ এবং কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা-সহ অন্যান্য আরও একাধিক ঝুঁকির সৃষ্টি করতে পারে, যা নিয়ে খুবই সতর্ক থাকা দরকার।”

স্বাস্থ্যসম্মত ভাবে কতটা ওজন ঝরানো যেতে পারে

শরীরের ক্ষতি না করে এক মাসে একটা মানুষ কতটা ওজন ঝরাতে পারেন, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা হ্যাপিয়েস্ট হেলথ-এর সঙ্গে কথা বলেছেন। সাঙ্গাপ্পার পরামর্শ, এক ব্যক্তি এক মাসে প্রায় 1.5-2 কেজি ওজন কমাতে পারে। তিনি বলছেন, “ওজন কমানোর পাশাপাশি যদি সেই সম্পর্কিত আরও বেশ কয়েকটি দিক মাইক্রোম্যানেজ করা যায়, তাহলে একজন আরও ওজন কমাতে পারেন।”

“বিরাট পরিমাণে ক্যালোরি ঘাটতির ডায়েট, শরীরের শক্তির জন্য ভয়ঙ্কর। এই ধরনের ডায়েটে পেশি ভেঙে যেতে পারে, অ্যাথলেটিক কর্মক্ষমতা হারাতে পারে এবং বিপাককে প্রভাবিত করে। আপনি যদি এক মাসে 4-5 কেজির বেশি ওজন কমান, তাহলে বুঝতে হবে, আপনি অস্বাভাবিক এবং অস্বাস্থ্যকর কার্যকলাপে নিযুক্ত। ক্র্যাশ ডায়েটিং দীর্ঘমেয়াদে আপনার বিপাককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং ভবিষ্যতে আপনার ওজন কমানোর ক্ষমতাকে নেতিবাচক ভাবে প্রভাবিত করতে পারে”, বললেন ডাঃ সতীশ।

তিনি আরও যোগ করে বলছেন, “এক মাসে 4 কেজির বেশি কমানোর চেষ্টা করলে প্রাথমিক ভাবে ওজন হ্রাস পায় ঠিকই, তারপরে ওজন বৃদ্ধি পায়।” যদিও ক্রীড়াবিদ এবং ফিটনেস ফ্রিকরা এক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম। কারণ, তাঁরা কঠোর ডায়েট এবং ব্যায়াম পদ্ধতি অনুসরণ করে আরও ওজন কমাতে সক্ষম হতে পারেন।

ওজন কমিয়ে তা যদি দীর্ঘ দিন ধরে রাখতে চান…

আপনার ওজন কমানোর লক্ষ্য যদি দীর্ঘমেয়াদি হয়, তাহলে একমাত্র ধীরে-ধীরে ওজন কমালেই আপনি উপকৃত হবেন। ডাঃ সতীশ এন বলছেন, “যেটাই করবেন, তার একটা সঙ্গতি বজায় রাখুন এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলিতে অভ্যস্ত হন, যা আপনাকে ওজন হ্রাসের দিকেই পরিচালিত করবে। যে কোনও পরিবর্তন তাড়াতাড়ি বোঝার জন্য প্রায়শই ওজন মনিটর করুন।”

একমাত্র স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই আপনার ওজন হ্রাস করতে পারে এবং তা দীর্ঘদিন সফল ভাবে ধরেও রাখতে পারে।

মোদ্দাকথা

* দ্রুত ওজন কমানোর পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদি হয় না। ধীরে ধীরে ওজন কমানোই সবথেকে ভাল উপায়।

* অল্প সময়ের মধ্যে দ্রুত ওজন কমানোর ফলে মেটাবলিজম পরিবর্তন, চুল পড়া, দ্রুত পেশি ক্ষয়, কোষ্ঠকাঠিন্য, ক্লান্তি, হাড়ের ক্ষয়ক্ষতি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হয়। হারানো ওজনও দ্রুত ফিরে আসতে পারে।

* ধারাবাহিকতা বজায় রাখা দরকার এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলিতে লেগে থাকতে হবে, যা ওজন হ্রাসের দিকে পরিচালিত করে।

 

আপনার অভিজ্ঞতা বা মন্তব্য শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

বহুল চর্চিত

প্রবন্ধ

প্রবন্ধ
দাঁত এবং মাড়ির স্বাস্থ্য খারাপ হলে সংক্রামক এন্ডোকার্ডাইটিস হতে পারে অর্থাৎ হার্ট ভালভের আস্তরণের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ। 
প্রবন্ধ
যোগায় হস্তমুদ্রা শুধুমাত্র ভঙ্গিমা নয়, প্রতিটি মুদ্রার নিজস্ব স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে।
প্রবন্ধ
আপনার হৃদয় যে সুস্থ আছে তা জানান দেওয়ার পূর্বলক্ষণ হল HDL কোলেস্টেরলের সঠিক  মাত্রা। আমরা খুঁজে দেখব কেন HDL -কে 'ভাল কোলেস্ট্রল' বলা হয়
প্রবন্ধ
কড়া এড়াতে নিয়মিত পা পরিষ্কার করা এবং ময়শ্চারাইজিং করাও দরকার। পা পরিষ্কার থাকলে, কেলাস তৈরি হলেও, কর্ণ বা কড়ায় পরিণত হওয়ার আগেই তা চলে যায়। 
প্রবন্ধ
প্রাণায়ামের সঠিক পদ্ধতির মধ্যে লুকিয়ে আছে সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি। শুধুমাত্র সঠিক শ্বাস-প্রশ্বাসের এই পদ্ধতি হতে পারে অনেক সমস্যাকে দূর করার সহজ কৌশল। আসুন জেনে নিন বিশদে এই বিষয়টি সম্পর্কে এখানে ক্লিক করে।
প্রবন্ধ
মধুমেহ সমস্যায় যারা ভুগছেন তাঁদের পুজোয় সঠিক পরিমাণে প্রোটিন এবং ফাইবার জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত সাথে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার যেমন সাদা ভাত খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

0

0

0

Opt-in To Our Daily Newsletter

* Please check your Spam folder for the Opt-in confirmation mail

Opt-in To Our
Daily Newsletter

We use cookies to customize your user experience, view our policy here

আপনার প্রতিক্রিয়া সফলভাবে জমা দেওয়া হয়েছে.

হ্যাপিস্ট হেলথ টিম যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনার কাছে পৌঁছাবে।