728X90

0

0

0

এই অনুচ্ছেদে

পিপাসার জল খাচ্ছেন যা থেকে, তাই এখন ‘প্রাণপিপাসু’! প্লাস্টিকের বোতল ডাকছে মারণ রোগ
9

পিপাসার জল খাচ্ছেন যা থেকে, তাই এখন ‘প্রাণপিপাসু’! প্লাস্টিকের বোতল ডাকছে মারণ রোগ

প্লাস্টিকের বোতল থেকে জল খাওয়ার অভ্যাস মোটেও ভাল নয়। এটি আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। প্লাস্টিকে ফ্যালেট নামক যে রাসায়নিক উপস্থিত থাকে, তা মানবদেহে গেলে লিভার ক্যান্সারের মতো রোগও ডেকে আনতে পারে। পুরুষের শুক্রাণুর সংখ্যাও কমায় এই রাসায়নিক।

A new study has found that one liter of bottled drinking water may contain around 110,000 to 370,000 plastic particles, which could harm your health

সুকুমার রায়ের ‘অবাক জলপান’ গল্পটা নিশ্চয়ই মনে আছে! সেই ছোট্টবেলায় এই গল্প পড়েননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। জল থেকে জলপাই, বৃষ্টির জল, নদীর জল, ফটিক জল, হঁকোর জল, রোদে ঘেমে জল— সে কত রকমের জল! কিন্তু এখন সমস্যাটা আর জল নিয়ে নয়। বরং, প্রচণ্ড তৃষ্ণায় আপনি পথে-ঘাটে বা অন্য কোথাও যা থেকে জলটা খাচ্ছেন, তা নিয়ে। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। সেটা হল জলের বোতল, প্লাস্টিকের জলের বোতল, যা ইদানিং কালের এক নিদারুণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে জল আমরা 100% বিশুদ্ধ ভেবে পান করছি, তা প্লাস্টিকের বোতলে রাখার ফলে আদৌ আর বিশুদ্ধ থাকছে তো? পিপাসার জল যে প্লাস্টিকে প্যাকেজিং করে রাখা হচ্ছে, তা ‘প্রাণপিপাসু’ নয় তো? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

চিকিৎসকরা বলছেন, দিনের পর দিন প্লাস্টিকের বোতলে জলপান করলে বা দীর্ঘদিন ধরে রেখে দেওয়া প্যাকেটজাত জল ব্যবহার করলে মানুষের শরীরের মারাত্মক সমস্যা হতে পারে। এর ফলে মানবদেহে শুক্রাণুর সংখ্যা কমতে পারে, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে, ডেকে আনতে পারে যকৃত, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, হরমোনাল ভারসাম্য বিগড়ে যাওয়ার মতো নানাবিধ সমস্যা।

সুস্থ জীবনযাপনের জন্য বিশুদ্ধ পানীয় জলের প্রয়োজন যে ঠিক কতটা, তা আর আলাদা ভাবে বলার দরকার হয় না! পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানীয় জল শরীরকে সতেজ এবং নিরোগ রাখতে সাহায্য করে। তবে সমস্যা প্লাস্টিকের বোতলে রাখা জলে। এই বোতলগুলি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হওয়ার পাশাপাশি মানবস্বাস্থ্যের জন্যও খুব একটা ভাল নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে বোতলগুলি পুনর্ব্যবহার করা যায় না, সেগুলিতে লুকিয়ে থাকে ভয়ানক বিপদ। তাঁদের দাবি, যে রাসায়নিকগুলির সংমিশ্রণে প্লাস্টিকের বোতল তৈরি হয়, সেগুলিই জলের সঙ্গে মিশে মানবদেহে একাধিক রোগব্যাধি ডেকে আনে।

হতে পারে লিভার ক্যান্সার

কলকাতার অ্যাপেলো মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতালের সিনিয়র অঙ্কোলজিস্ট ডাঃ তন্ময় মুখোপাধ্যায় এ বিষয়ে বলছেন, “প্লাস্টিকের বোতল থেকে জল খাওয়ার অভ্যাস মোটেও ভাল নয়। এটি আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। প্লাস্টিকে ফ্যালেট নামক যে রাসায়নিক উপস্থিত থাকে, তা মানবদেহে গেলে লিভার ক্যান্সারের মতো রোগও ডেকে আনতে পারে। পুরুষের শুক্রাণুর সংখ্যাও কমায় এই রাসায়নিক।” নিউইয়র্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, অত্যন্ত নামজাদা একটি পানীয় জল বিক্রয়কারী সংস্থার প্লাস্টিক বোতলে অতিরিক্ত মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক উপস্থিত।

ডাঃ মুখোপাধ্যায় আরও বলেন, ‘বাইফিনাইলের মতো রাসায়নিক, যা কি না অনেকটাই ইস্ট্রোজেনের মতো ধর্মবিশিষ্ট। এটি ওবেসিটি, ডায়াবেটিস, বন্ধ্যাত্ব, নারীদেহে অকাল বয়ঃসন্ধির কারণ হতে পারে। তাছাড়া এই প্লাস্টিক বোতলগুলি সূর্যালোকের সংস্পর্শে এলে ডায়ক্সিন নামক একটি রাসায়নিক বের হতে থাকে। এই রাসায়নিক খুবই বিপজ্জনক, মহিলাদের ব্রেস্ট ক্যান্সারের কারণ। ভারতের মত গ্রীষ্মপ্রবণ দেশে তাপমাত্রা যেহেতু অনেকটাই বেশি থাকে, তাই স্বাভাবিক ভাবেই ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকদের মতে, গর্ভবতী মহিলা, গর্ভস্থ ভ্রুণ, সদ্যোজাত শিশুদের জন্য প্লাস্টিকের বোতলের জল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকারক। তাঁদের দাবি, সাধারণ মানুষের চেয়ে দশগুণ বেশি ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে এঁদের।

প্লাস্টিকের বোতলে জল খাওয়া কেন নিরাপদ নয়?

1. প্লাস্টিকের বোতলে জল খেলে ধীরে ধীরে মানবদেহের কোষ ও কলায় মিশতে থাকে প্লাস্টিক। প্লাস্টিকের বোতলে থাকা জলের মধ্যে মিশে যায় ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্লাস্টিকের গুঁড়ো, যা আপাতদৃষ্টিতে আপনার নজরেই আসবে না। জল পান করার সময় সেগুলিই অজান্তে আমাদের শরীরে ঢুকে যায়। 1 লিটার বোতলের জলে মিশে থাকে অন্তত 2 লক্ষ 40 হাজার প্লাস্টিকের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম কণা। এগুলি ‘ন্যানো প্লাস্টিক’ নামে পরিচিত, যা খালি চোখে একেবারেই দেখা যায় না। বিজ্ঞানীরা আগে জানিয়েছিলেন, মানুষের শরীর থেকে শুরু করে সামুদ্রিক প্রাণী, গাছ, পাখি ইত্যাদির মধ্যে মাইক্রো প্লাস্টিকের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু ন্যানো প্লাস্টিক , মাইক্রো প্লাস্টিকের থেকেও সূক্ষ্ম এবং আরও বেশি ক্ষতিকারক।

2. আবার, প্লাস্টিকের বোতলে বাইফিনাইল নামক একটি রাসায়নিক যৌগ থাকে, যা জলের সঙ্গে মিশে ক্ষতিকারক টক্সিন তৈরি করে। ধীরে ধীরে জলকে বিষের সমতুল্য করে তোলে।

3. বহু প্লাস্টিকের বোতলের গায়ে লেখা থাকে সেগুলি মাত্র একবার ব্যবহারযোগ্য। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমরা সেগুলি বছরের পর বছর ধরে ব্যবহার করতে থাকি। যত দিন যায়, তত বেশি করে প্লাস্টিকের রাসায়নিক জলে মিশতে থাকে, যা আমাদের শরীরকে ভয়ংকর ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়।

‘বিপজ্জনক জলপান’

প্লাস্টিকের বোতলের ব্যবহার কমলে তা মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে তো বটেই, সমগ্র পরিবেশের জন্যই ভাল। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ব্যবহৃত প্লাস্টিক পড়ে রয়েছে জলাশয়ের এদিক-সেদিকে। স্থানীয় জলাশয় থেকে শুরু করে সমুদ্রেও জলদূষণের অন্যতম কারণ এই প্লাস্টিক। এটি জলাশয়ের জীবজন্তুদেরও শ্বাসকষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, এমতাবস্থায় কী করা উচিত? বিকল্প পথও বলে দিচ্ছেন চিকিৎসকরাই।

তাঁদের মতে, প্লাস্টিকের বোতল পুরোপুরি বর্জন করতে হবে এবং তার বদলে স্টেইনলেস স্টিল, কাচ কিংবা অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি বোতল ব্যবহার করা যেতে পারে। কেউ চাইলে মাটির বোতল বা সিরামিকের বোতল ব্যবহার করেও জলপান করতে পারেন। বুঝতে পারছেন তো, প্লাস্টিকের বোতলে জলপান কতটা ক্ষতিকারক। এ-ও একপ্রকার ‘অবাক জলপান’ই বটে! তবে, আজকের দিনে সুকুমার রায় থাকলে হয়তো ‘বিপজ্জনক জলপান’ নাম দিয়ে নতুন কোনও গল্প লিখতেন!

আপনার অভিজ্ঞতা বা মন্তব্য শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

বহুল চর্চিত

প্রবন্ধ

প্রবন্ধ
দাঁত এবং মাড়ির স্বাস্থ্য খারাপ হলে সংক্রামক এন্ডোকার্ডাইটিস হতে পারে অর্থাৎ হার্ট ভালভের আস্তরণের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ। 
প্রবন্ধ
যোগায় হস্তমুদ্রা শুধুমাত্র ভঙ্গিমা নয়, প্রতিটি মুদ্রার নিজস্ব স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে।
প্রবন্ধ
আপনার হৃদয় যে সুস্থ আছে তা জানান দেওয়ার পূর্বলক্ষণ হল HDL কোলেস্টেরলের সঠিক  মাত্রা। আমরা খুঁজে দেখব কেন HDL -কে 'ভাল কোলেস্ট্রল' বলা হয়
প্রবন্ধ
কড়া এড়াতে নিয়মিত পা পরিষ্কার করা এবং ময়শ্চারাইজিং করাও দরকার। পা পরিষ্কার থাকলে, কেলাস তৈরি হলেও, কর্ণ বা কড়ায় পরিণত হওয়ার আগেই তা চলে যায়। 
প্রবন্ধ
প্রাণায়ামের সঠিক পদ্ধতির মধ্যে লুকিয়ে আছে সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি। শুধুমাত্র সঠিক শ্বাস-প্রশ্বাসের এই পদ্ধতি হতে পারে অনেক সমস্যাকে দূর করার সহজ কৌশল। আসুন জেনে নিন বিশদে এই বিষয়টি সম্পর্কে এখানে ক্লিক করে।
প্রবন্ধ
মধুমেহ সমস্যায় যারা ভুগছেন তাঁদের পুজোয় সঠিক পরিমাণে প্রোটিন এবং ফাইবার জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত সাথে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার যেমন সাদা ভাত খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

0

0

0

Opt-in To Our Daily Newsletter

* Please check your Spam folder for the Opt-in confirmation mail

Opt-in To Our
Daily Newsletter

We use cookies to customize your user experience, view our policy here

আপনার প্রতিক্রিয়া সফলভাবে জমা দেওয়া হয়েছে.

হ্যাপিস্ট হেলথ টিম যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনার কাছে পৌঁছাবে।